মসূড়ার সামান্য ফোলা থেকে ভয়াবহ পরিণতি, হারিয়ে ফেললেন দুই হাত ও দুই পা

দাঁতের ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবেননি ডেভন ভ্যান্টারপুল। মাড়ির ফোলাভাব এবং রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে দন্ত্য চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে একে সাধারণ সমস্যা মনে করা হলেও ডেন্টিস্টের কাছ থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডেভনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, প্রচণ্ড ক্লান্তি এবং ফ্লুয়ের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দ্রুত তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে ডেভন ‘সেপটিক শক’ এর শিকার হয়েছেন। মূলত মাড়ির ক্ষত দিয়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া রক্তে মিশে গিয়ে সারা শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর ফলে তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্ট ও ভেন্টিলেটরের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। এমনকি এই লড়াই চলাকালীন দুবার তার হৃদস্পন্দন থেমে গিয়েছিল, যা চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টায় পুনরায় সচল করেন।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা এক কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তার শরীরে ‘পারপুরা ফুলমিন্যান্স’ নামক এক বিরল রোগ ধরা পড়ে, যার ফলে চামড়া ও মাংসপেশির কলা দ্রুত মরতে শুরু করে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে চিকিৎসকরা ডেভনের ডান পা, বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ এবং দুই হাত কেটে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামান্য দাঁতের সমস্যা থেকে সৃষ্ট এই জটিল সংক্রমণ কীভাবে এক সুস্থ মানুষকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে, সেই ঘটনায় বর্তমানে চিকিৎসকমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।