১২ লাখের গণ্ডি পেরোলেই বদলে যাচ্ছে আয়করের সমীকরণ, মার্জিনাল রিলিফের অঙ্ক বুঝে নিন সহজে

নতুন আয়কর কাঠামোতে বর্তমানে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ছাড় পাওয়ায় করের পরিমাণ শূন্য হয়ে যায়। তবে বার্ষিক আয় এই সীমা সামান্য অতিক্রম করলেই শুরু হয় করের গণনা। বিশেষ করে বেতন সামান্য বৃদ্ধির পর করের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় অনেক চাকুরিজীবী বিভ্রান্তিতে পড়েন। কর বিশেষজ্ঞদরে মতে, এই জটিলতা এড়াতে ‘মার্জিনাল রিলিফ’ বা প্রান্তিক স্বস্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ধরা যাক, দুই ব্যক্তির বার্ষিক আয় যথাক্রমে ১৩.৪ লক্ষ এবং ১৩.৫ লক্ষ টাকা। আয়ের পার্থক্য মাত্র ১০,০০০ টাকা হলেও করের হিসাবে বড় পার্থক্য দেখা দেয়। স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাবদ ৭৫,০০০ টাকা বাদ দিলে তাদের করযোগ্য আয় দাঁড়ায় যথাক্রমে ১২.৬৫ লক্ষ এবং ১২.৭৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান স্ল্যাব অনুযায়ী ৪-৮ লক্ষ টাকায় ৫%, ৮-১২ লক্ষ টাকায় ১০% এবং ১২ লক্ষের ওপর ১৫% হারে কর ধার্য হয়। এই হিসেবে ১৩.৪ লক্ষ টাকার আয়ে কর হয় ৬৯,৭৫০ টাকা এবং ১৩.৫ লক্ষ টাকার ক্ষেত্রে তা হয় ৭১,২৫০ টাকা।
এখানেই কাজ করে ‘মার্জিনাল রিলিফ’। ১৩.৪ লক্ষ টাকার ক্ষেত্রে ১২ লক্ষের অতিরিক্ত আয় ৬৫,০০০ টাকা, কিন্তু কর হচ্ছে ৬৯,৭৫০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত আয়ের চেয়ে কর বেশি হতে পারে না। তাই সরকার করের পরিমাণ ৬৫,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রেখে ৪,৭৫০ টাকার ছাড় দেয়। অন্যদিকে, ১৩.৫ লক্ষ টাকার আয়ে অতিরিক্ত আয় ৭৫,০০০ টাকা, যা প্রদেয় করের (৭১,২৫০ টাকা) চেয়ে বেশি। ফলে এই ক্ষেত্রে কোনো মার্জিনাল রিলিফ পাওয়া যায় না এবং পুরো করই দিতে হয়।
মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য মার্জিনাল রিলিফ একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। সামান্য বেতন বৃদ্ধির ফলে যাতে করের বোঝা আয়ের চেয়ে বেশি না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই নিয়মের উদ্দেশ্য। তবে আয় যত বৃদ্ধি পায়, এই সুবিধা তত কমতে থাকে। তাই সঠিক কর পরিকল্পনার জন্য শুধু আয়ের অংক নয়, বরং করের স্ল্যাব ও সরকারি ছাড়ের খুঁটিনাটি বোঝা জরুরি।