ঋণ গ্রহীতা টাকা না দিলে দায় আপনার বন্ধু বা আত্মীয়ের লোনের গ্যারান্টার হওয়ার আগে জেনে নিন আইনি ঝুঁকি

ঋণ গ্রহীতা টাকা না দিলে দায় আপনার বন্ধু বা আত্মীয়ের লোনের গ্যারান্টার হওয়ার আগে জেনে নিন আইনি ঝুঁকি

বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার খাতিরে আবেগের বশবর্তী হয়ে আমরা অনেক সময় অন্যের ঋণের গ্যারান্টার হয়ে যাই। অনেকের ধারণা, এটি কেবল একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যারান্টার হওয়া মানে ঋণের সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নেওয়া। যদি মূল ঋণগ্রহীতা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে ব্যাংক আইনত আপনার কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করার অধিকার রাখে। আপনার একটি স্বাক্ষর আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি বিপদে ফেলতে পারে।

কারও ঋণের গ্যারান্টার হওয়ার প্রথম এবং প্রধান ঝুঁকি হলো সিিবল (CIBIL) স্কোরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব। ঋণগ্রহীতা যদি সময়মতো ইএমআই (EMI) না দেন, তবে ক্রেডিট ব্যুরোর রিপোর্টে আপনার নামও ডিফল্টার হিসেবে যুক্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আপনার নিজের প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়বে। মূল ঋণগ্রহীতার ভুলের শাস্তি হিসেবে আপনার ক্রেডিট প্রোফাইল চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

আইনি দিক থেকে ব্যাংকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। ঋণগ্রহীতা পলাতক হলে বা টাকা দিতে না পারলে ব্যাংক গ্যারান্টারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বকেয়া টাকা ও সুদ উসুল করতে পারে। ঋণের নথিতে স্বাক্ষর করার অর্থ হলো আপনি লিখিতভাবে সম্মতি দিচ্ছেন যে, মূল ব্যক্তি ব্যর্থ হলে আপনি সেই দেনা মেটাবেন। তাই আবেগে না ভেসে গ্যারান্টার হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক স্বচ্ছতা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করেই এই পথে পা বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *