পাকিস্তানের পুরুষদের বিশাল অংশই সমকামী চাঞ্চল্যকর দাবি হেনা বালোচের

পাকিস্তানের পুরুষদের বিশাল অংশই সমকামী চাঞ্চল্যকর দাবি হেনা বালোচের

পাকিস্তানের পুরুষদের যৌন জীবন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন সেদেশের বিশিষ্ট অধিকার রক্ষা আন্দোলনকর্মী হেনা বালোচ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের পুরুষদের এক বিশাল অংশই সমকামী অথবা উভকামী। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ পুরুষ সমকামী এবং বাকি ২০ শতাংশ পুরুষ উভকামী। হেনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

হেনা বালোচ তাঁর যুক্তিতে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রে সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। সমাজ, ধর্ম এবং পারিবারিক সম্মানের ভয়ে অধিকাংশ মানুষ নিজেদের প্রকৃত যৌন পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে পারেন না। হেনার মতে, লোকচক্ষুর আড়ালে পাকিস্তানে যৌনতার এক ভিন্ন সমীকরণ কাজ করে, যা প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস সেদেশের নাগরিকরা সচরাচর দেখান না। সামাজিক রক্ষণশীলতাই এই সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে রাখছে বলে তিনি মনে করেন।

বালোচের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একটি অংশ এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানে সমকামিতা দীর্ঘদিনের এক গোপন বাস্তবতা। অন্যদিকে, সমালোচকদের বড় অংশই হেনার এই দাবিকে অতিরঞ্জিত এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে এই বিতর্ক যে খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, হেনা বালোচ নিজে একজন রূপান্তরকামী এবং দীর্ঘদিন ধরে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। পাকিস্তানে শৈশব থেকে নানা লাঞ্ছনা ও শোষণের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। পরবর্তীতে লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। সেখান থেকেই বর্তমানে তিনি তাঁর সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানের কঠোর আইন ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রেক্ষাপটে হেনার এই দাবি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে সেদেশের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এলেও, পুরুষ সমাজের যৌন পরিচয় নিয়ে এমন পরিসংখ্যানগত দাবি আগে কখনও সেভাবে উত্থাপিত হয়নি। সব মিলিয়ে হেনা বালোচের এই সাক্ষাৎকারটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *