২০২৭ বিশ্বকাপে কি ব্রাত্য রোহিত-বিরাট? নির্বাচকদের কড়া বার্তা দিলেন যুবরাজ সিং

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি খেলবেন কি না, তা নিয়ে দেশের ক্রিকেট মহলে জল্পনা তুঙ্গে। দুজনেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এখনও নিজেদের অপ্রতিরোধ্য প্রমাণ করে চলেছেন। তবে পরবর্তী বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তাঁরা আদৌ আছেন কি না, তা নিয়ে বিসিসিআই বা ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। বোর্ডের এই নীরবতা নিয়েই এবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন তারকা যুবরাজ সিং।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে যুবরাজ স্পষ্ট জানান, রোহিত ও বিরাটের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অন্ধকারে রাখা অনুচিত। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যা দ্রুত মেটানো প্রয়োজন। নির্বাচক ও ম্যানেজমেন্টের উচিত আইপিএল শেষেই এই দুই তারকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসা। তাঁরা আগামী বিশ্বকাপে ব্রাত্য হলে সেটিও যেমন স্পষ্ট করা দরকার, তেমনই দলে থাকলে তাঁদের ভূমিকা কী হবে তা-ও খোলাখুলি জানানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে যুবরাজ বলেন, শুধুমাত্র একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয়। বড় টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে চাপের মুখে অভিজ্ঞতাই জয়ের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। রোহিতকে সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অধিনায়ক হিসেবে বর্ণনা করে যুবরাজ জানান, প্রাপ্য সম্মানটুকু তাঁদের দেওয়া উচিত। একইভাবে বিরাট কোহলিকে এই প্রজন্মের সেরা ব্যাটার হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর কদর করার দাবি জানান তিনি।
পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলেও যুবরাজের দাবির সত্যতা মেলে। গত বছরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ৩০২ রান করে অসামান্য ফর্মে ছিলেন বিরাট। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০২ রান করে দলকে সিরিজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন রোহিত। নিউজিল্যান্ড সিরিজে রোহিত রান না পেলেও তাঁর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ কম। বর্তমান আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের আধিপত্য বজায় রয়েছে।
ভারতীয় দলের পাইপলাইনে যশস্বী জয়সওয়ালের মতো প্রতিভাবান তরুণরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকলেও, অভিজ্ঞ ও তরুণের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যুবরাজ সিং মনে করেন, দেশের ক্রিকেটকে দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্যের শিখরে রাখা দুই স্তম্ভকে বাতিলের খাতায় ফেলার আগে অন্তত তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা দরকার। দিনের শেষে দল নির্বাচন যে কোনও পন্থায় হতে পারে, কিন্তু তারকাদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সততা বজায় রাখা জরুরি।