বিজেপির চক্রান্তে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে ৯০ লক্ষ নাম, বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের

রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার এই সম্ভাবনা আসন্ন নির্বাচনের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে পরবর্তীতে বৈধতাও পান, তবে তিনি চলতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে মালদহের সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে রাজ্যে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জরুরি অবস্থা জারির জল্পনাও প্রবল হচ্ছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নিয়ে সম্প্রতি নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন। এমতাবস্থায় বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা শ্রীরামপুরের লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তন্ময় ঘোষ বিজেপির বিরুদ্ধে এই প্রেক্ষাপটে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির কোনো জনসমর্থন না থাকায় তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলায় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশরা যেভাবে বাংলা বিভাজনের চেষ্টা করেছিল, ঠিক একইভাবে বর্তমানে বিজেপি বাংলাকে গ্রাস করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।
তন্ময় ঘোষ আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলার মাটি নেতাজি, ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকির মতো বিপ্লবীদের দেশ, তাই এখানে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বর্তমানে সারা দেশে বিজেপির প্রধান বাধা হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা না দেখে বিজেপি সাধারণ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বলপূর্বক হেনস্থা করছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।
তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, বাংলাকে দখল করতে হলে এদেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে হয়, ষড়যন্ত্র করে নয়। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমেই বাংলার মানুষ সমস্ত ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়ে দেবে। বাঙালি কখনো কোনো স্বৈরাচারী শক্তির কাছে মাথা নত করেনি এবং করবেও না। তৃণমূল শিবিরের জোরালো বিশ্বাস, এই লড়াই শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।