২৫০ কোটির লোকসান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সংকটে রাজস্থানের বিশ্বখ্যাত মেহেদি শিল্প এখন খাদের কিনারায়

রাজস্থানের পালি জেলার সোজত এলাকাটি বিশ্বজুড়ে উন্নত মানের মেহেদি ব্যবসার জন্য পরিচিত। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পে ধস নেমেছে। ইউরোপ এবং ইসরায়েলে রপ্তানিযোগ্য পণ্য মাঝপথেই আটকে যাওয়ায় চরম সংকটের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন কোনো অর্ডার না আসায় বর্তমানে সোজতের রপ্তানি ইউনিটগুলোর কার্যক্রম প্রায় ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কাজ মাত্র ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এই শিল্পের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলেছে।
সোজত মেহেদি ব্যবসার বার্ষিক লেনদেন একসময় ৪০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত, যা বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তলানিতে এসে ঠেকেছে। গত ৩০ দিনে অবস্থা এতটাই বিগড়েছে যে, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০০০ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও কোটপুতলি থেকে আসা ৮০ শতাংশ পরিযায়ী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ২৫০০ শ্রমিকের সরাসরি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব পড়েছে।
রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, সমুদ্র ও আকাশপথে পণ্য পাঠানোর খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পণ্য মুম্বই ও দিল্লি কার্গোতে আটকে আছে। যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) এবং প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের সংকটও দেখা দিয়েছে, ফলে অনেক ফ্যাক্টরি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্থানের এই বিখ্যাত মেহেদি শিল্প সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।