ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতার মাস্টারস্ট্রোক, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে সুব্রত বক্সীর জায়গায় জাভেদ খান

বাংলার হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। এই লক্ষ্যেই দলের রণকৌশলে বড়সড় বদল এনে ভবানীপুরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব থেকে সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে মন্ত্রী জাভেদ খানকে দায়িত্ব দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী রণকৌশল অনুযায়ী, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটির দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং তিনটির দায়িত্বে ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু ভোটের আগে হঠাৎ ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব জাভেদ খানের হাতে তুলে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির মোকাবিলায় সংখ্যালঘু ও অবাঙালি ভোটের সঠিক বিন্যাস নিশ্চিত করতেই এই রদবদল।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে ছিল। গত লোকসভা ভোটেও এখানে বিজেপি ১,৮৬৮ ভোটের লিড পায়। ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ওয়ার্ডটি ঘাসফুল শিবিরের জন্য দীর্ঘদিনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভার সেই হারের ক্ষত মুছে উপনির্বাচনে লিড নিশ্চিত করাই এখন জাভেদ খানের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জনবিন্যাস অনুযায়ী, এই ওয়ার্ডে মাত্র ৮ শতাংশ বাঙালি ভোটারের বাস, যেখানে অবাঙালি ভোটার প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, ৪১ শতাংশ মুসলিম ভোটার এই ওয়ার্ডের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করে এবং অবাঙালি ভোটারদের একটি বড় অংশকে কাছে টানতেই সংখ্যালঘু মুখ হিসেবে জাভেদ খানকে ময়দানে নামানো হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন ফিরহাদ হাকিমের পরিবর্তে কেন জাভেদ খান? আসলে ফিরহাদ হাকিম নিজের কেন্দ্রের পাশাপাশি ভবানীপুরের তিনটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এবং সংখ্যালঘু প্রভাবিত এই ওয়ার্ডে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলতে জাভেদ খানকেই যোগ্য মনে করেছে দল। ২০১০ সাল থেকে এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের কাউন্সিলর থাকলেও লোকসভার নিরিখে পিছিয়ে থাকাটাই এখন প্রধান মাথা ব্যথার কারণ।
তৃণমূলের লক্ষ্য এই ওয়ার্ড থেকে মমতাকে রেকর্ড ব্যবধানে লিড দেওয়া। জাভেদ খান যদি এখানকার ৪১ শতাংশ মুসলিম ভোটের সিংহভাগ সুনিশ্চিত করতে পারেন, তবে অবাঙালি ও বাঙালি ভোটের সংমিশ্রণে বিজেপিকে টক্কর দেওয়া সহজ হবে। এখন দেখার, হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ে নেত্রীর আস্থার মর্যাদা রেখে জাভেদ খান ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ‘রাহুর দশা’ কাটাতে পারেন কি না।