বন্ধ হরমুজ প্রণালী: বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম সংকটে বিপন্ন চিকিৎসা ও প্রযুক্তি পরিষেবা

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হিলিয়াম এই পথেই রপ্তানি হয়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হিলিয়ামের মজুদ মাত্র ৪৫ দিনের জন্য সীমাবদ্ধ থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে কাতারে উৎপাদন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে এমআরআই মেশিন সচল রাখতে হিলিয়াম অপরিহার্য, যার অভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও এই গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম; চিপ উৎপাদন ব্যাহত হলে স্থবির হয়ে পড়বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারগুলো। মহাকাশ গবেষণা এবং রকেট উৎক্ষেপণেও হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। অত্যন্ত হালকা এই গ্যাস সংরক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রায় আসাম্ভব।
ভারত তার প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ হিলিয়ামই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যা বর্তমানে কার্যত স্তব্ধ। হরমুজে আটকে থাকা শত শত জাহাজে বিপুল পরিমাণ হিলিয়াম থাকলেও তা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এই গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে চিকিৎসা, মহাকাশ গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।