নীতীশ পরবর্তী বিহারে কে? বিজেপির গোপন চাল নিয়ে প্রাক্তন সাংসদের চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যৎবাণী

বিহারে ‘খরমাশ’ বা অশুভ সময় কাটলেই কি নতুন সরকারের অভিষেক হতে চলেছে? বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতীশ কুমারের পর বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নাম নিয়ে জোরালো চর্চা চলছে। তবে এরই মাঝে প্রাক্তন সাংসদ আনন্দ মোহনের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মোড় দিয়েছে, যা মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার বিজেপি নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
গত বৃহস্পতিবার মুজফফরপুর সফরে গিয়ে আনন্দ মোহন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে বিজেপির রণকৌশলকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তার দাবি, বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রী পদের নাম কোনো রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং অনেকটা লটারির মতো ‘চিট’ বা চিরকুট ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করা হয়। আনন্দ মোহন উপহাস করে বলেন, “আমরা কী ভাবছি তাতে কিছু যায় আসে না। বিজেপিতে কার ভাগ্য কখন খুলে যাবে এবং কার নামে চিরকুট বেরোবে, তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।”
প্রাক্তন এই সাংসদ বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নীতীশ কুমারই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন—এই স্লোগান দিয়েই জোট নির্বাচনে লড়াই করেছিল। এখন হঠাৎ এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হলো যে নীতীশ কুমারকে সরিয়ে অন্য কাউকে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আনন্দ মোহন জানান, নীতীশ কুমারকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ দখলের চেষ্টা করলে আখেরে জেডিইউ-এর চেয়ে বিজেপিরই বেশি ক্ষতি হবে। তার মতে, বিহারের অনগ্রসর শ্রেণি, দলিত এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক সরাসরি বিজেপির হাতে নেই। এই বিশাল ভোটব্যাঙ্ক মূলত নীতীশ কুমারের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণেই এনডিএ জোটের দিকে আসে। নীতীশকে গুরুত্বহীন করলে বিজেপি এই সমর্থন হারাবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
আনন্দ মোহন মুজফফরপুরের এক প্রোপার্টি ডিলারের খুনের ঘটনার বিচার চাইতেও সরব হন। তিনি জেলার এসএসপির সঙ্গে দেখা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে সব ছাপিয়ে তার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ এখন বিহারের ক্ষমতায় রদবদলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।