ভোটের আগে অফিসার বদলি নিয়ে সংঘাত, নবান্ন বনাম কমিশনের পাল্টা যুক্তিতে অস্বস্তিতে শাসকদল

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবসহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল। তবে এবার পাল্টা যুক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, গণহারে বদলির প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করেছিল নবান্নই। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ রাখতেই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে পর্যন্ত রাজ্য সরকার মোট ১৩৭০ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল। এই বিপুল তালিকায় ৯৭ জন আইএএস, ১৪৬ জন আইপিএস এবং ১০৮০ জন ডব্লিউবিসিএস অফিসার ছিলেন। ভোটের ঠিক আগে প্রশাসনের সর্বস্তরে এই ব্যাপক রদবদল অস্থিরতা তৈরি করেছিল বলে মনে করছে কমিশন। ফলে ভারসাম্য বজায় রাখতে তাদেরও বেশ কিছু জরুরি বদলি করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই যুক্তি মানতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভা থেকে অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি-র নির্দেশেই কমিশন কাজ করছে। এমনকি ভোটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন অফিসারদেরও সরানো হয়েছে বলে শাসকদলের দাবি। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হলেও আদালত কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি। ভোট এগিয়ে আসার সাথে সাথে এই প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে।