হাঁড়িভর্তি গরম জলেই ঘাতক বিদ্যুৎ, হিটিং রডের ব্যবহারে প্রাণ গেল তরুণের

কর্ণাটকের ধারওয়াড় জেলার দেবরাহুব্বল্লি গ্রামে ইলেকট্রিক ইমার্সন রড দিয়ে জল গরম করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ২৫ বছর বয়সী তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম নিবেদিতা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই স্নানের জল গরম করতে বালতিতে হিটিং রড ব্যবহার করেছিলেন নিবেদিতা। জল গরম হয়ে যাওয়ার পর অসাবধানতাবশত সুইচ বন্ধ না করেই তিনি রডটি জল থেকে বের করার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই বালতির জলের মাধ্যমে তীব্র বিদ্যুৎ তাঁর শরীরে প্রবাহিত হয় এবং তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর জখম অবস্থায় নিবেদিতাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অসতর্কতার কারণে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে। ধারওয়াড় গ্রামীণ পুলিশ এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
শীত বা বর্ষাকালে উত্তরোত্তর হিটিং রডের ব্যবহার বাড়ে, তবে সামান্য অবহেলাই যে প্রাণঘাতী হতে পারে তা এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল। বিশেষজ্ঞ ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মতে, এই ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় প্লাস্টিকের বালতি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ধাতব বালতি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিরাপত্তার খাতিরে সবসময় মনে রাখা উচিত যে, জল গরম হয়ে যাওয়ার পর প্রথমেই বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে প্লাগটি খুলে ফেলতে হবে। তার পরেই জল থেকে রডটি বের করা নিরাপদ। কোনো অবস্থাতেই রডটি বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা অবস্থায় বালতির জল স্পর্শ করা উচিত নয়। পাশাপাশি, পুরনো বা ত্রুটিপূর্ণ তারযুক্ত হিটিং রড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
সামান্য সময়ের অসতর্কতা একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে। তাই বাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। হিটিং রড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম না মানলে তা বিপজ্জনক আগ্নেয়াস্ত্রের মতোই ঘাতক হয়ে উঠতে পারে। আজকের এই দুর্ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই দিয়ে গেল।