নিজের পোষা কুকুরের আঁচড়ে প্রাণ হারাল কিশোরী, বিষক্রিয়ায় শেষ দেখা হলো না মা-বাবার

নিজের পোষা কুকুরের আঁচড়ে প্রাণ হারাল কিশোরী, বিষক্রিয়ায় শেষ দেখা হলো না মা-বাবার

তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলায় নিজের পোষা কুকুরের সাথে খেলা করার সময় সামান্য আঁচড় যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি এক পরিবার। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর শরীরে র‍্যাবিস বা জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যু হয়েছে তার। নিজের বাড়ির পোষা কুকুরের নখের আঁচড়কে গুরুত্ব না দেওয়ার চরম খেসারত দিতে হলো ওই কিশোরীকে।

ঘটনাটি ওট্টাপিডরাম এলাকার পুতিয়ামপুত্তুর গ্রামের। সেলভাকুমার ও জ্যোতি দম্পতির নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি প্রায় দু’মাস আগে বাড়ির কুকুরের সাথে খেলার সময় আঁচড় খেয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন বাড়ির কুকুর হওয়ায় ভয়ের কিছু নেই। এই অসাবধানতার কারণেই তাকে কোনো প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি।

গত ২৮শে নভেম্বর কিশোরীটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে থুথুকুডি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে, কুকুরের আঁচড় থেকে বিষক্রিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মাদুরাই রাজাজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মেয়েটির মৃত্যু হয়।

র‍্যাবিস সংক্রমণের তীব্রতার কারণে এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে শরীর থেকে বিষাক্ত ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কায় মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসকরা। শেষ পর্যন্ত সরকারি তত্ত্বাবধানেই মাদুরাইয়ের তাত্তানেরি শ্মশানে মেয়েটির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

আদরের সন্তানকে হারানোর পাশাপাশি শেষবারের মতো তার মুখটুকু দেখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের আঁচড় বা কামড়ের সাথে সাথেই সঠিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে এই অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব ছিল। এই ঘটনা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে থাকার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও অবহেলার পরিণাম নিয়ে সমাজের কাছে এক বড় সতর্কতা বার্তা দিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *