নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ: পাঁচ রাজ্যে ৫০৯ অফিসারের বদলি, সিংহভাগই বাংলার

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ১৭ দিনে ভোটমুখী পাঁচ রাজ্যে ৫০৯ জন সরকারি আধিকারিককে বদলি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই তালিকায় সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ওপর। মোট বদলি হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে ৪৮৩ জনই বাংলার, যা অন্য তিন রাজ্যের তুলনায় প্রায় ২১ গুণ বেশি। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে শুরু করে জেলা স্তরের বিডিও ও পুলিশ আধিকারিকদের এই গণ-বদলিতে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ১৫ জনকে সরানো হলেও এবার বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নজিরবিহীনভাবে বিপুল সংখ্যক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে কমিশনের কাছে কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। অন্যদিকে, বিজেপি এই রদবদলকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে সমর্থন জানিয়েছে। আসাম, কেরল ও তামিলনাড়ু মিলিয়ে মাত্র ২৬ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং পুদুচেরিতে কোনো বদলি হয়নি।