নদীয়ায় সোয়া লক্ষ ভোটার বাদ পড়ায় তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক আগে নদীয়ায় ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাতটি সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৬৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ১ লক্ষ ৫৭ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ৩১ হাজার ৯৬ জনের নাম বিবেচিত হয়েছে। এখনও প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ঝুলে থাকায় যুযুধান দুই পক্ষ—তৃণমূল ও বিজেপির অন্দরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া, নাকাশিপাড়া, পলাশীপাড়া এবং কালীগঞ্জে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। শাসক শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাপড়ায় ১৬,০৩১ এবং নাকাশিপাড়ায় ১২,০৩৫ জনের নাম বাদ পড়ায় তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। অন্যদিকে, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম (৯,৯৮৩) এবং কৃষ্ণগঞ্জের (৮,৫২০) মতো মতুয়া প্রধান এলাকাগুলোতেও হাজার হাজার নাম বাদ গিয়েছে, যা গত নির্বাচনে বিজেপির বড় ভোটব্যাঙ্ক ছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল সরাসরি কেন্দ্রের অভিসন্ধিকে দায়ী করেছে। বিদায়ী মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের অভিযোগ, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে। তিনি একে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিয়েও শেষ রক্ষা হবে না; বাংলার মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দেবেন।
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি নেত্রী অপর্ণা নন্দী এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আইনি পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সঠিক নথিপত্র থাকলে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই এবং প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে আইন কঠোর হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এবার তাঁরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকার এই কাটছাঁট আগামী নির্বাচনের ফলাফলে ‘উলোট পুরাণ’ ঘটাতে পারে। বিশেষত যে আসনগুলোতে গতবার তৃণমূল বা বিজেপি অল্প ব্যবধানে জিতেছিল, সেখানে ভোটার সংখ্যা হ্রাস জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। নদীয়া জেলা জুড়ে এই অজানা আশঙ্কায় প্রার্থীরা এখন রীতিমতো চাপে রয়েছেন।