অ্যাপলের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে এখন অটোচালক রাকেশ স্বাধীনতার খোঁজে অনন্য নজির

অ্যাপলের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে এখন অটোচালক রাকেশ স্বাধীনতার খোঁজে অনন্য নজির

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের মোটা মাইনের চাকরি এবং কর্পোরেট জীবনের বিলাসিতা ছেড়ে বর্তমানে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় ইলেকট্রিক অটো চালাচ্ছেন রাকেশ। একসময়ের ধোপদুরস্ত আইটি কর্মীর এই অভাবনীয় জীবনবদল এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। রাকেশের মতে, কেবল অর্থের পেছনে ছুটে নয়, বরং মানসিক শান্তি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে আছে।

কর্পোরেট দুনিয়ার অত্যধিক কাজের চাপ এবং ‘টক্সিক’ পরিবেশ রাকেশের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় টানা কাজ এবং লক্ষ্য পূরণের চাপে তিনি নিজেকে স্রেফ একটি যন্ত্রের মতো অনুভব করতেন। এই মানসিক অস্থিরতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তাকে নিমহ্যান্সের (NIMHANS) মতো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়, যা তার পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে রাকেশ ওষুধের পাশাপাশি মনোবিজ্ঞান এবং শরীরচর্চার ওপর জোর দেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এবং কঠোর পরিশ্রমে তিনি প্রায় ১৫ কেজি ওজন কমান। এমনকি মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় রুপোর পদক জিতে নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেন। এই পরিবর্তনই তাকে গতানুগতিক পেশার বাইরে নতুন কিছু করার সাহস জোগায়।

নিজের নতুন জীবন গড়ার পথে রাকেশ কোনো কাজকেই ছোট মনে করেননি। অটো চালানোর আগে তিনি খাবার ডেলিভারি, বাইক ট্যাক্সি চালানো এমনকি জিমের মেঝে ও টয়লেট পরিষ্কার করার কাজও করেছেন। প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাকে বিনয়ী হতে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে শিখিয়েছে। বর্তমানে নিজের ইলেকট্রিক অটো চালানোর পাশাপাশি তিনি নাচ ও ছবি আঁকার মতো শখের কাজগুলো করারও সুযোগ পাচ্ছেন।

রাকেশের এই জীবনকাহিনি তথাকথিত সামাজিক মর্যাদা এবং উচ্চ বেতনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। চার বছরের কঠোর সংগ্রামের পর তিনি আজ একজন সফল ও সুখী মানুষ। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত সুখ কোনো বহুজাতিক সংস্থার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নয়, বরং নিজের পছন্দমতো বাঁচার স্বাধীনতার মধ্যেই নিহিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *