ভোটারদের হুমকি দিয়ে শ্রীঘরে তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডল

নির্বাচনমুখী বাংলায় আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের কঠোর পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেন বহরমপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডল। শুক্রবার রাতে কমিশনের সরাসরি নির্দেশে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটারদের প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টাকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেখানে বহরমপুর তৃণমূলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাজু মণ্ডলকে প্রকাশ্য সভায় ভোটারদের হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন তা ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায় এবং বিরোধীরা সরাসরি কমিশনের দ্বারস্থ হন।
ভাইরাল ভিডিওতে রাজু মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট নিয়ে কোনো সমস্যা হয়, তবে ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; তিনি বাড়িতে মিষ্টি পাঠিয়ে দেবেন। আর ভোট দিলে তা শুধুমাত্র তৃণমূলকেই দিতে হবে। এই ধরনের উস্কানিমূলক ও হুমকিমূলক বক্তব্য দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিরোধীদের অভিযোগ, শাসকদল পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। পদ্মশিবিরের দাবি, রাজু মণ্ডলের এই মন্তব্য ভোটমুখী বাংলার প্রকৃত অরাজকতার প্রতিফলন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যার ফলে শুক্রবার রাতে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্বাচন কমিশন পুনর্বার সর্তকবার্তা জারি করে জানিয়েছে, কোনোভাবেই কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো যাবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। বহরমপুরের এই ঘটনা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। শান্তি বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।