শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তি, তদন্তে ৩৮ জনকে তলব পুলিশের

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অশান্তির ঘটনায় তদন্তে গতি বাড়াল পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ এবং পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত একাধিক মামলার ভিত্তিতে মোট ৩৮ জনকে তলব করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রয়েছেন। আলিপুর থানায় কমিশনের দায়ের করা একটি নির্দিষ্ট মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ জন কর্মীকে তলব করা হয়েছে। মূলত সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অশান্তির ঘটনায় আলিপুর ও কালীঘাট থানায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আরও দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। এই দুই মামলায় তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরের আরও ৩২ জনকে তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ইতিমধ্যেই আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন কীভাবে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার নেপথ্যে কাদের ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তের স্বার্থে সকলকেই নির্দিষ্ট সময়ে থানায় হাজিরার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত লিখিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখার সময় বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন। বিতর্কিত সেই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যে সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা বা হুমকিমূলক কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গণ-তলব এবং কমিশনের সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আপাতত সকল পক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।