হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে দেশে ফিরল সপ্তম এলপিজি ট্যাঙ্কার গ্রিন সানভি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম উত্তেজনার মাঝে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়সড় স্বস্তি মিলল। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অতিক্রম করেছে ভারতের সপ্তম এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’। শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্যাঙ্কারটি ইরানের জলসীমার একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ করিডোর ব্যবহার করে এই দুর্গম জলপথ পাড়ি দেয়। প্রায় ৪৪,০০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে জাহাজটি এখন ভারতের পথে, যা দেশের এক দিনের মোট ব্যবহারের প্রায় অর্ধেক চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নেওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বর্তমানে কার্যত স্থবির। এই পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিক তৎপরতায় ‘শিবালিক’, ‘নন্দা দেবী’ ও ‘জাগ বসন্ত’ সহ মোট সাতটি ট্যাঙ্কারকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ‘গ্রিন সানভি’ এবং অন্যান্য জাহাজগুলোকে মূল নৌপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং নিজেদের জাতীয় পরিচয় স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
যদিও সপ্তম ট্যাঙ্কারটির ফেরা কিছুটা স্বস্তিদায়ক, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে অন্তত ১৭টি এলপিজি ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে, যার মধ্যে ‘গ্রিন আশা’ ও ‘জাগ বিক্রম’ শীঘ্রই ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে। এছাড়া আরও তিনটি ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, ফলে এই জলপথে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি ট্যাঙ্কারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ওপর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন গ্যাসের যোগান নির্ভর করছে। ইরান সরকার মিত্র দেশ হিসেবে ভারতকে নির্দিষ্ট নিয়মে এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জাহাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি রেখেছে। ফলে এই সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেই সমুদ্রপথে যাতায়াত করতে হবে।