শুভেন্দুর গড়ে তৃণমূলে মেগা কমিটি কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতেই? ভোটের আগে নয়া সমীকরণ

প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই ঘর গোছাতে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার শাসকদলের তরফে একাধিক জেলার বিধানসভাভিত্তিক ‘ইলেকশন কমিটি’ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষত, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশাল কমিটি গঠন করে বিশেষ চমক দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এই পদক্ষেপের নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকলহ দমনের চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল ও হলদিয়া—এই পাঁচটি বিধানসভার কমিটিতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পাঁশকুড়া পূর্বে ৪৫ জন এবং হলদিয়ায় ৫৯ জন নেতাকে নিয়ে কমিটি গড়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, পাঁশকুড়া পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরী টিকিট না পেলেও তাঁকে চিফ অ্যাডভাইজ়ার করা হয়েছে। একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দক্ষিণ ও হাওড়ার শিবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতেও বিদায়ী বিধায়কদের কমিটিতে উচ্চপদ দিয়ে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
শুধুমাত্র মেদিনীপুর নয়, পুরুলিয়া, মালদা এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রেও একই ধাঁচে কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরেও বিদায়ী মন্ত্রী তজমুল হোসেনকে টিকিট না দিয়ে কমিটির অ্যাডভাইজ়ার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিকিট না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং সব পক্ষকে নির্বাচনী লড়াইয়ে সামিল করতেই এই স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তৃণমূল হাইকম্যান্ড। প্রতিটি কমিটিতে চেয়ারম্যান, আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের মতো পদ দিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।
তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব সরাসরি খারিজ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি, প্রতিটি বিধানসভায় কয়েকশো বুথ থাকে এবং সেই বিশাল কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যই বড় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এটি কেবল নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা মসৃণ করার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তা সত্ত্বেও ভোটের মুখে সব স্তরের নেতাদের এক ছাতার তলায় আনার এই কৌশলকে ঘিরে শাসকদলের অন্দরে ও বাইরে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।