নার্সারিতেই বার্ষিক ফি লাখ টাকার গণ্ডি পার, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা

শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বেসরকারি স্কুলগুলোর আকাশছোঁয়া ফি কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সম্প্রতি এক অভিভাবকের শেয়ার করা নার্সারি ক্লাসের ফি তালিকা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। ওই তালিকা অনুযায়ী, নার্সারিতে পড়ুয়া এক শিশুর তিন মাসের ফি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৪ লক্ষ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়িতেই এই বিপুল আর্থিক বোঝা মধ্যবিত্ত পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে পূজা সেতিয়া নামে এক অভিভাবক তাঁর সন্তানের স্কুলের ফি কার্ডের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তিতে মোট ১,২৪,৭৮০ টাকা দাবি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। একইভাবে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ—প্রতিটি ত্রৈমাসিকেই সমপরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে। পূজা রসিকতা করে জানান, এই বিপুল অর্থ যদি তিনি সন্তানের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড বা এসআইপিতে বিনিয়োগ করতেন, তবে স্নাতক স্তর শেষে তাঁর হাতে এক বিশাল অঙ্কের সঞ্চয় থাকত।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, নার্সারির এই তিন মাসের খরচে তাঁরা একসময় সম্পূর্ণ স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্যদিকে, একাংশের মতে অভিভাবকদের কাছে সাধ্যের মধ্যে থাকা স্কুল বেছে নেওয়ার বিকল্প সবসময়ই থাকে। উচ্চ ফি দিয়ে সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের মানসিকতাকেও অনেকে দায়ী করেছেন।
তবে বিতর্কের মাঝেও একদল মনে করছেন, নামী স্কুলগুলো কেবল পাঠ্যপুস্তকীয় শিক্ষাই দেয় না, বরং সামাজিকতা ও ব্যক্তিত্ত্ব গঠনের পরিবেশও প্রদান করে। তা সত্ত্বেও, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনার খরচ যেভাবে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষানুরাগী মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা এখন মেধার চেয়েও বেশি আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।