৯৯ শতাংশ মানুষই জানেন না জেসিবি-র আসল নাম ও জন্মবৃত্তান্ত
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/23/3FFoHH72DLH9XHA6JhQ0.jpg?w=850&resize=850,518&ssl=1)
রাস্তায় বা নির্মাণকাজে হলুদ রঙের বিশাল যন্ত্রটি মাটি খুঁড়লেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। এই যন্ত্রটিকে আমরা সাধারণভাবে ‘বুলডোজার’ বা ‘জেসিবি’ বলে ডাকলেও, আসলে ‘জেসিবি’ কোনো যন্ত্রের নাম নয়, বরং এটি একটি বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ ব্র্যান্ড। ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডের একটি ছোট গ্যারেজ থেকে জোসেফ সিরিল বামফোর্ড (Joseph Cyril Bamford) এই সংস্থার সূচনা করেন। তাঁর নামের আদ্যক্ষরগুলো দিয়েই তৈরি হয়েছে এই কালজয়ী ব্র্যান্ডের নাম— ‘JCB’। শুরুতে এই সংস্থা কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রেলার ও ট্রাক্টর তৈরি করলেও, ১৯৫৩ সালে তারা বিশ্বের প্রথম ‘ব্যাকহো লোডার’ তৈরি করে ইতিহাস গড়ে।
ভারতে জেসিবি-র জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে আশির দশকের পর থেকে। রাস্তাঘাট নির্মাণ, খাল খনন কিংবা গৃহনির্মাণ— সব ক্ষেত্রেই এই যন্ত্রের অপরিহার্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে যেকোনো খননযন্ত্রই এখন ‘জেসিবি’ নামে পরিচিত। এই যন্ত্রের বিশালাকার হাত বা বাকেটের সাহায্যে নিমিষেই টন টন মাটি বা রাবিশ সরিয়ে ফেলার দৃশ্যটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করে। মনোবিদদের মতে, এই ধরনের জটিল যান্ত্রিক কাজ দেখার পেছনে মানুষের সহজাত কৌতূহল ও এক ধরনের ‘ভিজুয়াল স্যাটিসফ্যাকশন’ কাজ করে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগেও জেসিবি-র জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ২০১৯ সালের দিকে ইউটিউবে ‘JCB Ki Khudai’ নামক ট্রেন্ডটি ভাইরাল হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ কেবল মাটি খোঁড়ার ভিডিও দেখে সময় কাটিয়েছেন। বর্তমানে এটি কেবল একটি নির্মাণকারী যন্ত্র নয়, বরং ভারতের রাজনীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে ‘ক্ষমতা’ বা ‘অ্যাকশন’-এর প্রতীক হয়ে উঠেছে। উত্তরাখণ্ডের বন্যা থেকে শুরু করে ঝাড়গ্রামে হাতি উদ্ধার— বিভিন্ন সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও জেসিবি-র ভূমিকা অনস্বীকার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইংল্যান্ডের সেই ছোট্ট গ্যারেজ থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বিশ্বজুড়ে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। জেসিবি এখন কেবল একটি কো ম্পা নি নয়, বরং আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর মানুষের কৌতূহলকে সঙ্গী করে জেসিবি আজও নির্মাণ দুনিয়ায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। দিন দিন এর ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে একে ঘিরে থাকা বিচিত্র সব সামাজিক ও রাজনৈতিক চর্চা।