দেওয়াল লিখন অতীত, এখন বাঙালির পকেটে পকেটে ঘুরছেন ভোটপ্রার্থীরা

দেওয়াল লিখন অতীত, এখন বাঙালির পকেটে পকেটে ঘুরছেন ভোটপ্রার্থীরা

ভোটের প্রচারে সনাতনী দেওয়াল লিখনের গুরুত্ব কমিয়ে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে জোর দিচ্ছে সব রাজনৈতিক দল। বহুতল আবাসন বা দেওয়ালে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রার্থীদের প্রচারের মূল ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। তৃণমূল, বিজেপি ও বাম—সব পক্ষই এখন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটারদের দরজায় নয়, বরং সরাসরি হাতের মুঠোয় পৌঁছে যাচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাঙালি দিনে গড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় সোশাল মিডিয়ায় কাটায়, যা এই ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তৃণমূলের দেবাংশু ভট্টাচার্য ও বিজেপির সপ্তর্ষি চৌধুরীর মতো প্রচার কৌশলী তরুণ তুর্কিরা জানাচ্ছেন, এখন শুধু জেন-জি নয়, বাড়ির বয়স্করাও স্মার্টফোনে অভ্যস্ত। ডিজিটাল প্রচারের বড় সুবিধা হলো এর স্বচ্ছতা; কতজন একটি পোস্ট দেখছেন বা লাইক করছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান দলের কাছে থাকছে। ফলে দেওয়াল লিখনের চেয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন অনেক বেশি কার্যকরী ও প্রামাণ্য নথি হিসেবে কাজ করছে।

রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতাদর্শ ও উন্নয়নের বার্তা ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আলাদা কৌশল নিচ্ছে। সৃজন ভট্টাচার্যের মতে, কর্মসংস্থান বা গণতন্ত্রের মতো ইস্যুগুলো বয়স ও এলাকা ভেদে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো যেমন তুলে ধরা হচ্ছে, তেমনি বিজেপি ও বামেরাও তাদের রাজনৈতিক ভাষ্য ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। দিনশেষে প্রার্থীরা এখন আর দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই, তারা আক্ষরিক অর্থেই ভোটারদের পকেটে অবস্থান করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *