ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলায় পরমাণু বিপর্যয়ের আশঙ্কা ইরানের, নিশ্চিহ্ন হতে পারে উপসাগরীয় দেশগুলো

তেহরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েল ও আমেরিকার চতুর্থ দফার বড় ধরনের হামলার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে যদি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে, তবে তার প্রভাব কেবল তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এর ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর জনজীবন পুরোপুরি বিপন্ন হয়ে পড়বে। আরাঘচির মতে, পশ্চিমাদের মদতে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিচারিতার সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে সরব হলেও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে উপর্যুপরি হামলার বিষয়ে বিশ্বশক্তিগুলো কেন নীরব? তাঁর দাবি, বুশেহরের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে পরিকল্পিত আক্রমণ প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল ও আমেরিকার মূল লক্ষ্য কেবল সামরিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও আঞ্চলিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা।
শনিবারের এই হামলার নেপথ্যে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘাতকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, তারা আমেরিকার দুটি ফাইটার জেট, একটি এ-১০ এয়ারক্রাফট, একাধিক হেলিকপ্টার, দুটি এমকিউ-৯ ড্রোন এবং বেশ কিছু ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করেছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পাল্টায় ক্ষুব্ধ হয়েই ইসরায়েল ও আমেরিকা পুনরায় বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বর্তমানে এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।