ইরানকে সমর্থন দিয়ে ঘোর বিপাকে পাকিস্তান, ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাইল সংযুক্ত আরব আমিরাত

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেও চরম কূটনৈতিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। ইরানের প্রতি ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পাকিস্তানকে দেওয়া ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ চলতি মাসের মধ্যেই পরিশোধ করার চরমসীমা বেঁধে দিয়েছে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের টালমাটাল অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আবুধাবি ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবুধাবির এই আকস্মিক অর্থ ফেরতের দাবি পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ইউএই-র ঋণের কিস্তি মেটানো দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার সঞ্চিত রয়েছে। সেখান থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলে দেশটির মোট রিজার্ভ প্রায় ১৮ শতাংশ কমে যাবে, যা আমদানির সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাকিস্তানের সম্ভাব্য আরও ২ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, পাকিস্তানের অদূরদর্শী বিদেশনীতিই দেশটিকে এই সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরাগভাজন হওয়া পাকিস্তানের জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এই অর্থ ফেরত দেওয়াকে জাতীয় মর্যাদা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মধ্যে এই বিশাল আর্থিক বোঝা সামাল দেওয়া ইসলামাবাদের জন্য এক প্রকার আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই টানাপোড়েনে পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে।