একই দিনে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ৬ ইসরায়েলি ড্রোন ধ্বংস করল ইরান

একই দিনে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ৬ ইসরায়েলি ড্রোন ধ্বংস করল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই বড়সড় সাফল্যের দাবি করল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ইরানের আকাশসীমায় চালানো বড়সড় বিমান হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানসহ ইসরায়েলের মোট ছয়টি অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে আইআরজিসি।

ইরানের অর্ধ-সরকারি সংবাদ সংস্থা তসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে এই অভিযান চালানো হয়। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্স দাবি করেছে, খোমেন ও জানজান প্রদেশে দুটি ক্রুজ মিসাইল, ইসফাহানের আকাশে দুটি এমকিউ-৯ ড্রোন এবং বুশেহরে একটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও মধ্য ইরানে আমেরিকার একটি উন্নতমানের যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে চালানো ভয়াবহ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। উল্লেখ্য, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেইসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের আকাশসীমা শত্রু বিমানের জন্য ক্রমশ আরও বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠবে।

বর্তমানে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা এই যুদ্ধ ৩৫ দিনে পা দিল। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন ব্যবহার আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো নিরন্তর ও নিখুঁত নজরদারির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এই বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমেরিকা বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *