ইরানের বুশহর পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন মিসাইল হানা নিহত ১

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে শনিবার সকালে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বুশহর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় কেন্দ্রের এক নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। যদিও এই হামলায় পরমাণু কেন্দ্রের মূল পরিকাঠামো সুরক্ষিত রয়েছে, তবে একটি সহকারী ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এক নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর এই হামলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, মার্কিন বাহিনী এখনও তাদের চূড়ান্ত সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতৃত্বকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত বুশহর পরমাণু কেন্দ্রটি ইরানের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান স্তম্ভ। এটি দেশটির প্রথম বাণিজ্যিক পরমাণু শক্তি কেন্দ্র যা তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই কেন্দ্রটির ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে চলা বিরোধ এই ঘটনার ফলে এখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে।
মার্কিন হামলার প্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, যেকোনো আগ্রাসনের ‘বিধ্বংসী’ জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠছে।