নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে সাফ জানালেন বিচারপতি নাগারত্না

নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে সাফ জানালেন বিচারপতি নাগারত্না

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগারত্না দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। শনিবার পাটনার চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ মেমোরিয়াল লেকচার’-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নির্বাচন কমিশনের মতো সংস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে এবং এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কোনো প্রভাব পড়া উচিত নয়। তাঁর মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা অপরিহার্য।

বিচারপতি নাগারত্না বলেন, নির্বাচন কেবল সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা গঠিত হয়। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সময়মতো নির্বাচনের ফলে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার অর্থ হলো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শর্তাবলিকে নিজের অধীনে আনা। যদি নির্বাচন পরিচালনাকারী ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা আসাম্ভব।

বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সিএজি (CAG) এবং অর্থ কমিশনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। বিচারপতি জানান, এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে থেকে তারা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে। টিএন সেশন বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার প্রধান দায়িত্ব হলো অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা করা।

পরিশেষে বিচারপতি বি ভি নাগারত্না ইতিহাসের শিক্ষা তুলে ধরে বলেন, যখন কোনো দেশের সাংবিধানিক কাঠামো বা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই সেখানে অধিকার হরণের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানগুলো যখন একে অপরের ওপর নজরদারি বন্ধ করে দেয়, তখনই কাঠামোগত শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ, আদালত বা নির্বাচন জারি থাকলেও ক্ষমতার ওপর কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই গণতন্ত্রকে সচল রাখতে প্রতিটি সাংবিধানিক স্তম্ভের স্বাধীনতা রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *