ভোটের আগে সংসদের বিশেষ অধিবেশন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, মোদী সরকারের চালে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস

আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই পদক্ষেপ ঘিরেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা। কংগ্রেসের অভিযোগ, আইন প্রণয়ন নয় বরং এই অধিবেশনের মাধ্যমে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ফায়দা নিতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল আনার সম্ভাবনা থাকায় বিরোধীরা একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুসহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলাকালীন এই অধিবেশন নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাঁর মতে, সরকার জরুরি আলোচনার দোহাই দিয়ে আসলে সংসদীয় এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইছে, যার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। বিরোধীদের দাবি, এই ধরনের স্পর্শকাতর সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে সংসদে দীর্ঘ ও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন ছিল, যা এই তড়িঘড়ি অধিবেশনে সম্ভব নয়।
পাল্টা যুক্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, সংবিধান মেনেই এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থে বিলগুলি দ্রুত পাশ করা প্রয়োজন। সরকার পক্ষের দাবি, মহিলাদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করার মতো উন্নয়নমূলক পদক্ষেপকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া কাম্য নয়। আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক অধিকার সরকারের রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতে তারা বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে সংসদের এই বিশেষ অধিবেশন শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একদিকে সরকারের সংস্কারের যুক্তি এবং অন্যদিকে বিরোধীদের নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর পাল্টা অভিযোগ—এই দ্বৈরথে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী পারদ এখন তুঙ্গে। এই অধিবেশনের ফলাফল আসন্ন ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।