বিজেপিকে ভোট দিলে নিজের অধিকার বিপন্ন হবে তারাপীঠে হুঙ্কার অভিষেকের

বিজেপিকে ভোট দিলে নিজের অধিকার বিপন্ন হবে তারাপীঠে হুঙ্কার অভিষেকের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের মাটি থেকে বিজেপিকে সমূলে উপড়ে ফেলার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তারাপীঠের কড়কড়িয়া মোড়ের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, এবারের লড়াই কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং যারা সাধারণ মানুষকে বারংবার সংকটে ফেলেছে তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার। বীরভূমের ১১টি আসনেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত দাবি করে হাসন কেন্দ্রের প্রার্থী কাজল শেখের জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজার পার করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন তিনি।

এদিন সভা থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, গত পাঁচ বছরে বীরভূমের উন্নয়নে কেন্দ্র এক পয়সা খরচ করে থাকলে তা শ্বেতপত্র প্রকাশ করে প্রমাণ দেওয়া হোক। কেন্দ্র যদি সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে থাকে, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্য সাথীর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে পাশে দাঁড়িয়েছে। অভিষেক হুঁশিয়ারি দেন, প্রধানমন্ত্রী যদি কেন্দ্রের অবদানের প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তিনি আর প্রচার করবেন না।

এলাকার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে মন্দির চত্বরের ভোলবদল হয়েছে। চার লেনের রাস্তা ও পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি হাসন কেন্দ্রে প্রায় ৮৪ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। ভোটার তালিকায় নাম বিভ্রাট প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি লড়াই লড়ছেন। বিজেপি বাংলা বলা মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

বিজেপিকে বহিরাগত শক্তি আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, দিল্লির শাসন বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বা সংস্কৃতি নির্ধারণ করতে পারে না। রবীন্দ্র-বিদ্যাসাগরের এই পুণ্যভূমিতে উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ ভোটবাক্সেই হবে। বিজেপি একটি বুথেও জেতা মানেই সাধারণ মানুষের অধিকার বিপদের মুখে পড়া। দিল্লির কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করে তিনি বীরভূমের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *