দিল্লির দূষণ রুখতে আইআইটি কানপুরের ভরসায় ফের কৃত্রিম বৃষ্টির পথে হাঁটার পরিকল্পনা

দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় গত বছরের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফের কৃত্রিম বৃষ্টি বা ‘ক্লাউড সিডিং’ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে চলেছে দিল্লি সরকার। আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই বছর নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূলত শীতকালীন দূষণ চরমে পৌঁছালে সাধারণ মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতেই এই প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রশাসনিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত বছর আকাশে পর্যাপ্ত মেঘ ও জলীয়বাষ্পের অভাবে সিলভার আয়োডাইড প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব হয়নি। কৃত্রিম বৃষ্টির এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। আকাশে উপযুক্ত আর্দ্রতা না থাকলে এই জটিল প্রযুক্তি কার্যকর হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড সিডিং কেবল সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে এটি কোনো স্থায়ী বৈজ্ঞানিক সমাধান নয়।
দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এবার সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা হবে। আগের বারের যান্ত্রিক ও পরিবেশগত ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করে আরও উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিমান থেকে বিশেষ রাসায়নিক ছিটিয়ে বায়ুমণ্ডলে থাকা দূষিত কণাগুলোকে বৃষ্টির মাধ্যমে নিচে নামিয়ে আনাই এর মূল লক্ষ্য। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় কাটেনি।
পরিবেশবিদদের একাংশ মনে করছেন, কৃত্রিম বৃষ্টির মতো ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত পদ্ধতির চেয়ে যানবাহন ও শিল্পক্ষেত্রের ধোঁয়া এবং ফসলের গোড়া পোড়ানো বন্ধের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন। তবে সরকার আপাতত জরুরি ভিত্তিতে দূষণ কমাতে আইআইটি কানপুরের প্রযুক্তিতেই ভরসা রাখছে। রাজধানীর আকাশ পরিষ্কার রাখতে এই দফার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।