ট্রাম্পের শর্ত উড়িয়ে পাকিস্তানে আলোচনায় বসতে নারাজ ইরান

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামাবাদে আয়োজিত হতে চলা সমঝোতা বৈঠক নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল’-এর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাটিতে আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও প্রকার আলোচনায় বসতে সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। একইসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া শর্তাবলীও মানতে নারাজ তারা।
সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে শান্তি ফেরাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইসলামাবাদের এই প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও বাদ সেধেছে ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী দিনে পাকিস্তানে গিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের মুখোমুখি হওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। এর ফলে সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটন যুদ্ধের অবসানে যে সকল দাবিদাওয়া পেশ করেছে, ইরান তা কোনও পরিস্থিতিতেই গ্রহণ করতে রাজি নয়। পরিবর্তে তেহরান পালটা শর্তারোপ করেছে যে, সংঘর্ষ থামাতে হলে আমেরিকাকেই নির্দিষ্ট দাবি মানতে হবে। ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, ট্রাম্প প্রশাসনকে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
উল্লেখ্য, রবিবার ইসলামাবাদে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের বিদেশমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বন্ধু দেশগুলো এই বৈঠকে অংশ নিলেও ইরানের অনড় মনোভাব আলোচনার টেবিলে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আপাতত বড় ধাক্কা খেল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান যুদ্ধের আবহকে আরও জটিল করে তুলছে। আপাতত ইরান ও আমেরিকার এই দ্বৈরথ বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিল।