বামফ্রন্টের ইস্তাহারে নেই লক্ষ্মীর ভান্ডার, পরিবার পিছু স্থায়ী চাকরি ও বেকার ভাতায় বড় চমক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর হাত ধরে প্রকাশিত এই ইস্তাহারে রাজ্যের বর্তমান সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর মতো কোনো সরাসরি আর্থিক প্রকল্পের উল্লেখ না থাকলেও নজর দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ওপর। বামেদের প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে উঠে এসেছে পরিবার পিছু অন্তত একটি স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা। এছাড়া সরকারি শূন্যপদ পূরণ, নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং নিবন্ধিত বেকারদের জন্য অন্তত দুটি চাকরির সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে ইস্তাহারে।
রাজ্য সরকারের বর্তমান বেকার ভাতার আদলে বামফ্রন্ট ‘নেতাজি সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প’ চালুর কথা জানিয়েছে। এই প্রকল্পে সমাজসেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত যুবকদের মাসিক ২০০০ টাকা ভাতা এবং ‘কর্মভূমি পোর্টাল’-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ ও শহর এলাকায় যথাক্রমে ২০০ এবং ১২০ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ কারখানা ও চা-বাগান পুনরায় খোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ভারী ও মাঝারি শিল্প ফিরিয়ে এনে রাজ্যের বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করাই বামেদের অন্যতম লক্ষ্য।
নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন প্রশ্নেও একাধিক পদক্ষেপের কথা রয়েছে ইস্তাহারে। আরজি কর বা তমান্না কাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং নির্যাতিতাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় পুলিশের স্বশাসিত বাহিনী তৈরির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন, শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষা এবং দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মাসিক ৬০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বামফ্রন্টের এই নির্বাচনী দলিলে।
শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতেও বামেরা বড়সড় বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছে। রাজ্য বাজেটের ২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয়ের পাশাপাশি স্নাতক স্তর পর্যন্ত টিউশন ফি মকুব এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা’ নামক নতুন প্রকল্প চালুর কথা উল্লেখ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, প্রত্যক্ষ নগদ সাহায্যের বদলে শিল্পায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী কর্মসংস্থানের পথেই হাঁটতে চাইছে বামফ্রন্ট, যা তাদের এই ইস্তাহারে অত্যন্ত স্পষ্ট।