ডেথ ওভারে তুষার দেশপান্ডের ম্যাজিক, গুজরাতকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাজস্থান

আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করল রাজস্থান রয়্যালস। ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে গুজরাত একসময় জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেও, ডেথ ওভারে রাজস্থানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ ওভারের থ্রিলারে ইয়র্কার বিশেষজ্ঞ তুষার দেশপান্ডের নিখুঁত বোলিংয়ে ৬ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় পরাগ বাহিনী। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের মগডালে এখন রাজস্থান।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১০ রানের শক্তিশালী স্কোর খাড়া করে। ওপেনিং জুটিতে যশস্বী জয়সওয়াল ও তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী ঝড়ো শুরু করেন। বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী মহম্মদ সিরাজ ও অশোক শর্মাদের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দেন। মিডল অর্ডারে ধ্রুব জুরেলের ৪৫ বলে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস রাজস্থানকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। যদিও গুজরাত অধিনায়ক রশিদ খান বৈভবকে ফিরিয়ে রাজস্থানকে কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন, তবুও বড় লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে সফল হয় তারা।
রান তাড়া করতে নেমে গুজরাতের হয়ে সাই সুদর্শন ৭৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। একসময় রবি বিষ্ণোই ৪ উইকেট নিয়ে গুজরাতকে ধাক্কা দিলেও শেষ দিকে কাগিসো রাবাডা ও রশিদ খানের ব্যাটে জয়ের আশা জাগিয়েছিল টাইটান্সরা। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ১৫ রান দরকার ছিল। অধিনায়ক রিয়ান পরাগ চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে ১৯তম ওভারে জোফ্রা আর্চারকে বল দেন। আর্চার মাত্র ৪ রান খরচ করে রাজস্থানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।
চূড়ান্ত ওভারে জয়ের জন্য গুজরাতের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। অভিজ্ঞ সন্দীপ শর্মা বা নান্দ্রে বার্গারকে বাদ দিয়ে অধিনায়ক পরাগ ভরসা রাখেন তুষার দেশপান্ডের ওপর। অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা দিয়ে তুষার পর পর কয়েকটি নিখুঁত ইয়র্কারে রশিদ ও রাবাডাকে বেঁধে ফেলেন। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন এই মুম্বাই পেসার। অধিনায়ক হিসেবে রিয়ান পরাগের সঠিক সিদ্ধান্ত এবং বোলারদের ঠান্ডা মাথার পারফরম্যান্স রাজস্থানকে এনে দিল স্মরণীয় এক জয়।