ইরানের বিদ্যুৎ ও শিল্পকেন্দ্রে ইজরায়েলের বিধ্বংসী হামলার ছক, তুঙ্গে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের পারদ চড়িয়ে এবার ইরানের জ্বালানি ও শিল্প পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে ইজরায়েল। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর পরবর্তী লক্ষ্য হতে চলেছে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বণ্টন নেটওয়ার্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার চরমসীমা মাথায় রেখেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই হামলা শুরু হতে পারে।
শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাঁদের অভিযানের পরিধি এখন ইরানের সাধারণ পরিকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই তালিকায় এমন সব শিল্প রয়েছে যা সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ইরানের ইস্পাত ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইজরায়েলের দাবি, ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ইস্পাত শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে। তেল আভিভের অভিযোগ, এই কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ইস্পাত ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইভাবে পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলোকেও নিশানায় রাখা হয়েছে, যেখানকার উৎপাদিত কাঁচামাল বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরিতে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে ইজরায়েলের দাবি।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের সূত্রমতে, হামলার পরবর্তী ধাপটি অত্যন্ত কৌশলগত হতে চলেছে। ইরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ইজরায়েল। এই অভিযানের ফলে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি সংঘাতের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।
ওয়াশিংটনের কড়া বার্তার পর ইজরায়েলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে গভীর সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষত ইস্পাত ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের মতো অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডগুলোকে লক্ষ্য করায় ইরানের প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।