পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের দায়ে অপসারিত জলহাটির সেক্টর অফিসার

জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে এই মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওই আধিকারিক নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রচার সামগ্রী তৈরির কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই অভিযোগ সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পতাকা ও ব্যানার তৈরি করছেন, যার সাথে ওই সেক্টর অফিসারের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রিটার্নিং অফিসার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কমিশনের মতে, সরকারি দায়িত্বে থাকাকালীন এই ধরনের আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে।
রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত অতনু চক্রবর্তীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে যে কেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং বারাসাত সার্কেলকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা নির্বাচন দফতরে পাঠানো রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই আধিকারিকের কর্মকাণ্ড একজন নির্বাচনকর্মীর আদর্শ ও নৈতিকতার পরিপন্থী বলেই মনে হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে জলহাটি কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা, যা কেন্দ্রটিকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তাঁর বিপরীতে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বাম-কংগ্রেস প্রার্থীরাও ময়দানে রয়েছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের আগে এই স্পর্শকাতর কেন্দ্রে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে কমিশন। অভিযুক্ত অফিসারকে অপসারণের সিদ্ধান্ত সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করানোর ক্ষেত্রে কমিশনের প্রতিবদ্ধতাকেই পুনরায় প্রতিফলিত করেছে।