মায়ের শেষকৃত্য ঘিরে প্রশ্নের মুখে অভিনেতা প্রকাশ, রাজ ট্রোলড হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজের মা স্বর্ণলতার প্রয়াণ এবং তার পরবর্তী শেষকৃত্যের রীতিনীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ২৯শে মার্চ ৮৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রকাশ রাজ নিজেকে ‘নাস্তিক’ হিসেবে পরিচয় দিলেও মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খ্রিস্টান রীতি মেনে গির্জায় সম্পন্ন করায় নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে অভিনেতা ট্রোলদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
প্রকাশ রাজের গির্জার অনুষ্ঠানে যোগদানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। নেটিজেনদের প্রশ্ন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস না রাখা সত্ত্বেও কেন তিনি খ্রিস্টান ধর্মীয় আচার অনুসরণ করলেন? বিশেষ করে অতীতে হিন্দুধর্ম বা সনাতন ধর্ম নিয়ে তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ টেনে অনেকেই তাঁর ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বা ‘নাস্তিকতা’ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা তাঁর এই আচরণকে পক্ষপাতমূলক ঘৃণা হিসেবে দেখছেন।
পালটা প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ রাজ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন যে, তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও তাঁর মা বিশ্বাসী ছিলেন। মায়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও তাঁর শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানানোই একজন সন্তানের দায়িত্ব। তাঁর মতে, অন্যের বিশ্বাসের প্রতি এই ন্যূনতম সম্মানটুকু প্রদর্শন করা জরুরি। তবে সমালোচকরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে রামলীলা বা সনাতন ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা এবং অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্ম পালনে কোনো আপত্তি না থাকা আসলে অভিনেতার ছদ্মবেশ মাত্র।
প্রকাশ রাজের এই আত্মপক্ষ সমর্থন বিরোধীদের শান্ত করতে পারেনি। অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, অতীতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর উস্কানিমূলক মন্তব্য ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। অভিনেতার দাবি অনুযায়ী তিনি সহনশীলতার কথা বললেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তাকে লক্ষ্য করে করা সমালোচনাকে তিনি কেন ‘দানবীয়’ আচরণ বলছেন। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত শোকের আবহেও ধর্মীয় ও আদর্শগত বিতর্কে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন এই খ্যাতিমান অভিনেতা।