ইরানের তেহরানে মার্কিন হামলা খতম একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় দাবি

ইরানের তেহরানে মার্কিন হামলা খতম একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানে এক শক্তিশালী অভিযানে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতা খতম হয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে ট্রাম্প জানান, ইরানের ভুল পথে চালিত করা সামরিক নেতৃত্ব এই বড় হামলার মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবি তেহরানকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পরেই এল। এর আগে ইরানকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, হয় কোনো চুক্তিতে আসতে হবে নতুবা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির মোকাবিলা করতে হবে ইরানকে। সেই ডেডলাইন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগেই তেহরানের বুকে এই বড়সড় সামরিক অভিযান চালানো হলো।

অন্যদিকে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে তারা ইরান জুড়ে ২০০টিরও বেশি অবকাঠামো এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ১৪০টিরও বেশি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই নির্ভুল হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা।

ইরানে আইআরজিসি-র যে প্রধান ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র মজুত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

লেবাননের অভ্যন্তরেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ইজরায়েল। সেখানে হিজবুল্লাহর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অস্ত্রভাণ্ডার এবং লঞ্চিং সাইটগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর এলিট ‘রাদওয়ান ফোর্স’-এর সদর দফতরে সফল হামলা চালিয়ে সংগঠনের কমান্ড কাঠামোকে বড় ধাক্কা দিয়েছে আইডিএফ। এর আগে শুক্রবারও পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ৭০টির বেশি ড্রোন ও মিসাইল সাইটে হামলা চালানো হয়েছিল।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ পদক্ষেপে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে ইজরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। তেহরানে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *