আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবন কাটানো সুলেমানির ভাইঝিকে গ্রেফতার করল মার্কিন প্রশাসন

আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবন কাটানো সুলেমানির ভাইঝিকে গ্রেফতার করল মার্কিন প্রশাসন

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর মোড় নিল দুই দেশের সম্পর্ক। ইরানের নিহত সামরিক কমান্ডার কাসেম সুলেমানির ভাইঝি এবং নাতনিকে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেফতার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। অভিযোগ উঠেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন মুলুকে বসবাস করলেও ধারাবাহিকভাবে ইরান শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন এবং আমেরিকা বিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ধৃত হামিদেহ সুলেমানি আফশার এবং তার মেয়ে আমেরিকায় অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করছিলেন। তবে তাদের কার্যকলাপ ছিল জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। তারা বিভিন্ন সময় মার্কিনিদের ওপর হামলার সমর্থন জানিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে আমেরিকাকে আক্রমণ করেছেন। এই কারণেই তাদের আইনি বসবাসের মর্যাদা বাতিল করে নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর।

অন্যদিকে, এই গ্রেফতারি ঘিরে সুলেমানি পরিবারের তরফ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমে সুলেমানির কন্যারা দাবি করেছেন, ধৃত মহিলারা তাদের পরিবারের কোনো অংশ নন। সুলেমানি পরিবারের কোনো সদস্য আজ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখেননি বলেও তারা কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। দুই দেশের এই পরস্পরবিরোধী দাবি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা বিদেশের মাটিতে বসে আমেরিকার ক্ষতি করার পরিকল্পনা করবে বা সন্ত্রাসী মতাদর্শ প্রচার করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই গ্রেফতারি আমেরিকার ইরানবিরোধী কঠোর নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ড্রোন হামলায় সুলেমানির মৃত্যুর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরেছিল। বর্তমানে শুধু সুলেমানির আত্মীয়রাই নন, ইরানের আরও একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার স্বজনদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করছে আমেরিকা। লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *