মালদা কাণ্ডে বিস্ফোরক মমতা, এনআইএ-র বিরুদ্ধে নিরপরাধদের হয়রানির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার মালদার মানিকচকে এক নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। মোথাবাড়িতে বিচারিক আধিকারিকদের ঘেরাও ও হিংসার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আসল অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তদন্তের নামে প্রায় ৫০ জন নিরপরাধ যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিকে নিশানা করে বলেন, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল অশান্তি সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করানো হয়। মোথাবাড়িতে ঠিক এমনটাই ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। সভায় উপস্থিত বহু মানুষের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড় সভার চেয়েও এখন অগ্রাধিকার হলো এই মানুষদের আইনি সহায়তা প্রদান করা। তিনি সাধারণ মানুষকে কোনো প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁদের বিচারিক আধিকারিকদের কাছে সরাসরি ভিড় না করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, আইন মেনেই নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। উল্লেখ্য, গত বুধবার মোথাবাড়িতে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনিক আধিকারিকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের সিআইডি ইতিমধ্যেই ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তভার নির্বাচন কমিশন জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছেন যে, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় আসল অভিযুক্তদের আড়াল করে স্থানীয়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।