হিন্দু সেজে বিয়ে ও ধর্মান্তর, হায়দরাবাদে নারী নিগ্রহের ঘটনায় চাঞ্চল্য

হায়দরাবাদে এক মহিলার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং আর্থিক শোষণের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, নওয়াজ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হিন্দু এবং ‘নবদুর্গা’ নামে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২০২১ সালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং পরে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের মাধ্যমে মহিলার আপত্তিকর ছবি তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল শুরু করা হয়। অভিযুক্ত এবং তার পরিবার মিলে মহিলার থেকে প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, বিয়ের পর তাঁকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং তাঁর নাম বদলে ‘নাজিরা’ রাখা হয়। নিরামিষাশী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে জোর করে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করা হতো এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি অভিযুক্তের ভাইয়েরা এবং বন্ধুরাও তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আগস্ট মাসে ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
আর্থিক জালিয়াতির বিষয়ে মহিলা জানান, তাঁর নামে একাধিক লোন নেওয়া হয়েছে এবং শামশাবাদের একটি জমিও অনুমতি ছাড়া বিক্রি করে দিয়েছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের কাছে পৌঁছালেও নির্যাতিতার দাবি, পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। ধর্ষণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেবল একটি ‘নিখোঁজ’ ডায়েরি দায়ের করেছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নওয়াজ ছাড়াও মুনাওয়ার, শাহরুখ এবং সোহেলসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ওই মহিলা।