মানবাজারে তৃণমূল প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে উৎসবের মেজাজ ও জনজোয়ার

মানবাজারে তৃণমূল প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে উৎসবের মেজাজ ও জনজোয়ার

পুরুলিয়া জেলার মানবাজার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু এবং বান্দোয়ান বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজিব লোচন সোরেন তাদের মনোনয়ন দাখিল করেন। রাজিব লোচন সোরেন এদিন সস্ত্রীক মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছে তার আবেদনপত্র জমা দেন। প্রার্থীদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মানবাজারের ইঁদকুড়ি মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল শুরু হয়, যা প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। ঢোল, ধামসা ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে কয়েক হাজার সমর্থক মিছিলে পা মেলান। দলীয় স্লোগান ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বিদায়ী মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু এবং জেলা তৃণমূল সভাপতির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে দুই প্রার্থীই সংবাদমাধ্যমের সামনে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের করা ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন এবং সেই উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ তৃণমূলকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করবেন। সন্ধ্যারানী টুডু ও রাজিব লোচন সোরেন উভয়েই জানান, মানবাজার ও বান্দোয়ান কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজিব লোচন সোরেন আরও বলেন যে, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও উন্নয়নের যে কাজগুলি এখনও বাকি রয়েছে, আগামী দিনে সেগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে তারা নির্বাচনী ময়দানে বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। মনোনয়ন ঘিরে এই জনসমাগম আদতে তৃণমূলের জনভিত্তিরই প্রমাণ বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *