তৃণমূলের তারকা প্রচারক তালিকায় গ্ল্যামার ও অভিজ্ঞতার মেজাজ, মমতা অভিষেকের সঙ্গী আর কারা?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য ৪০ জন হেভিওয়েট ‘তারকা প্রচারক’-এর তালিকা প্রকাশ করেছে জোড়াফুল শিবির। প্রত্যাশিতভাবেই এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের প্রথম দফার আসনগুলিতে দলের প্রচারের মূল দায়িত্ব সামলাবেন এই দুই শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গ্ল্যামার এবং আক্রমণাত্মক মেজাজের নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখে জয়ের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের এই হাই-প্রোফাইল তালিকায় রয়েছেন সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং বীরবাহা হাঁসদার মতো অভিজ্ঞ মন্ত্রী ও নেতারা। সংসদীয় রাজনীতির চেনা মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রর পাশাপাশি তারকা ইমেজে শান দিতে রাখা হয়েছে অভিনেতা-সাংসদ দেব, শতাব্দী রায় ও শত্রুঘ্ন সিনহাকে। এছাড়া ভোটারদের মন জয় করতে ইউসুফ পাঠান, কীর্তি আজাদ ও সায়নী ঘোষের মতো জনপ্রিয় মুখদেরও ময়দানে নামানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জনমোহিনী ভাবমূর্তি নয়, বরং সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি বুথে বিরোধীদের টক্কর দেওয়াই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, প্রচারের ময়দান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানিকচকের জনসভা থেকে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর শান্তিতে থাকতে হলে বিজেপিকে রুখতে হবে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এনআইএ, সিবিআই ও ইডি এখন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলছে। এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব বিপন্ন হতে পারে। এমনকি ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদেরও ভোট দিতে রাজ্যে ফেরার বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, দুই দফার এই নির্বাচনে জয় হাসিল করতে তৃণমূল কোনো খামতি রাখতে চাইছে না।