ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, মার্কিন হামলায় নিহত একাধিক সেনাকর্তা

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, মার্কিন হামলায় নিহত একাধিক সেনাকর্তা

তেহরানে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সেনাকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই অভিযানকে তেহরানের ওপর আমেরিকার এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ইরানকে এবার ‘নরকের রাস্তা’ দেখানো হবে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।

মূলত হরমুজ প্রণালীর সমস্যা সমাধানে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য মাত্র ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে শুক্রবার ইরানের হামলায় আমেরিকার দু’টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় একজন মার্কিন পাইলট উদ্ধার হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পর পর দু’টি যুদ্ধবিমান খুইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা শুরু করেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন রণংদেহী মূর্তিকে মোটেই গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তেহরান। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে সরাসরি কটাক্ষ করে ইরানের সেনাকর্তা আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে অত্যন্ত ভীত ও অসহায় বোধ করছেন। আলিয়াবাদির দাবি, এই অসহায়ত্ব থেকেই ট্রাম্প একের পর এক অবিবেচকের মতো ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এই পাল্টা চ্যালেঞ্জের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।

বর্তমানে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করতে স্থানীয়দের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। কূটনৈতিক মহলের মতে, যদি দুই পক্ষ সংযম প্রদর্শন না করে, তবে এই সংঘাত বৃহত্তর সামরিক রূপ নিতে পারে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *