ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে ‘নির্বোধের কাজ’ বলে কটাক্ষ ইরানের, পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পাল্টায় কড়া জবাব দিল ইরান। গত ২৬ মার্চ শান্তি চুক্তি স্থাপন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইরানকে দশ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। এই আবহে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তেহরানকে সময়সীমার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, চুক্তি না করলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। ট্রাম্পের এই বার্তার প্রেক্ষিতেই ইরানের সেনা সদর দফতরের প্রতিনিধি জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভারসাম্যহীন’ ও ‘নির্বোধ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি জানিয়েছেন, হার স্বীকার করার পর আমেরিকার ‘যুদ্ধবাজ’ প্রেসিডেন্ট এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইরানের জাতীয় সম্পদ ও পরিকাঠামোকে নিশানা করার হুমকিকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ। উল্টে তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বা ইজরায়েলি পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আক্রমণ হলে তার বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইজরায়েলি অবকাঠামোর ওপর অবিরাম হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আবদোল্লাহি দাবি করেছেন, আমেরিকার সামনে ‘নরকের দ্বার’ খুলে দেওয়া হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের সেনা জওয়ানেরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত ২১ মার্চও ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় দাবি করা হয়েছিল, হরমুজ পথ না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেবে আমেরিকা। যদিও সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো সামরিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের অনুরোধেই তিনি সময় বাড়িয়েছেন। ট্রাম্পের এই দফায় দফায় সময়সীমা নির্ধারণকে তেহরান এখন নিছক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছে। একদিকে যখন পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন দুই দেশের এমন অনড় অবস্থান ও বাগযুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ায় চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আগামী ৬ এপ্রিল এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।