বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা ১ জনের মৃত্যু, বিকিরণ ঝুঁকির সতর্কতা

বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা ১ জনের মৃত্যু, বিকিরণ ঝুঁকির সতর্কতা

ইরানের বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকান ও ইজরায়েলি বায়ুসেনা ওই পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে ভয়াবহ যৌথ হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ইরান আন্তর্জাতিক মহলে ‘মারাত্মক বিকিরণ ঝুঁকি’ নিয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে। তেহরান দাবি করেছে, একটি চালু পরমাণুকেন্দ্রে এই ধরনের আক্রমণ গোটা অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় এটি নিয়ে মোট চারবার হামলা চালানো হলো। আরাঘচির মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই আগ্রাসন মানবজাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিতে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এই সতর্কবার্তার মাঝেই বুশেহরের এই বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, হামলায় পরমাণুকেন্দ্রের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আপাতত তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বারবার এই ধরনের টার্গেট করা হলে অঞ্চলটি মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দূষণের মুখে পড়বে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক স্থাপনার কাছে এমন সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ইরান সরকার বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছে যে, পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটলে তার পরিণাম হবে সুদূরপ্রসারী। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইরানের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সার্বভৌমত্ব ও পরিবেশ রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *