ডেথ ওভারের রোমাঞ্চে গুজরাতকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রিয়ান পরাগের রাজস্থান

ডেথ ওভারের রোমাঞ্চে গুজরাতকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রিয়ান পরাগের রাজস্থান

আহমেদাবাদে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ২১০ রানের লক্ষ্যমাত্রা রক্ষা করে জয় ছিনিয়ে নিল রাজস্থান রয়্যালস। শেষ ওভারের টানটান উত্তেজনায় নিখুঁত ইয়র্কারে বাজিমাত করেন তুষার দেশপান্ডে। সাই সুদর্শনের লড়াকু ৭৩ রান এবং রবি বিষ্ণোইর চার উইকেটের দাপটে ম্যাচ এক সময় গুজরাতের দিকে ঝুঁকে থাকলেও, শেষ হাসি হাসল রাজস্থানই। এই জয়ের ফলে চেন্নাইয়ের পর গুজরাতকে হারিয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল রিয়ান পরাগের দল।

ম্যাচের শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য গুজরাতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৫ রান। ক্রিজে ছিলেন কাগিসো রাবাডা ও রশিদ খানের মতো বিধ্বংসী জুটি। চাপের মুখে অধিনায়ক রিয়ান পরাগ রণনীতি পরিবর্তন করে ১৯তম ওভারে বল তুলে দেন জোফ্রা আর্চারের হাতে। আর্চার মাত্র ৪ রান দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এরপর চূড়ান্ত ওভারে সন্দীপ শর্মা বা নান্দ্রে বার্গারের বদলে তুষার দেশপান্ডের ওপর আস্থা রাখেন পরাগ। নিখুঁত ইয়র্কারে রশিদ-রাবাডাকে আটকে রেখে মাত্র ৪ রান খরচ করেন তুষার, যা রাজস্থানকে ৬ রানের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেয়।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২১০ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে রাজস্থান রয়্যালস। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণাত্মক মেজাজে ৭০ রানের জুটি গড়েন। বৈভব শুরু থেকেই মহম্মদ সিরাজ ও অশোক শর্মার মতো বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাঠের চারদিকে বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন। তবে ব্যক্তিগত সংগ্রহ বড় করার আগেই রশিদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর তিন নম্বরে নেমে ধ্রুব জুরেলের ৪৫ বলে ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস রাজস্থানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।

অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার পূর্ণকালীন দায়িত্ব পেয়েই মাঠের ভেতর সঠিক সিদ্ধান্ত ও বোলিং পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করলেন রিয়ান পরাগ। বিশেষ করে ডেথ ওভারে আর্চার ও তুষারকে ব্যবহারের যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। পাওয়ার প্লে-তে জশস্বী ও বৈভবের আগ্রাসী ব্যাটিং এবং মাঝের ওভারে জুরেলের দায়িত্বশীল ইনিংসের ওপর ভিত্তি করেই রাজস্থান এই বড় জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পারফরম্যান্স বোলারদের পাশাপাশি রাজস্থানের ব্যাটিং শক্তির গভীরতাকেও পুনরায় প্রমাণ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *