ইরানে ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত আলটিমেটাম ট্রাম্পের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমার শেষ পর্যায়ে এসে সামাজিক মাধ্যমে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি নতুন চুক্তিতে সই না করে অথবা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে, তবে তাদের ওপর ‘নরকের ধ্বংসলীলা’ নেমে আসবে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের ষষ্ঠ সপ্তাহে পদার্পণ করার পর এই আলটিমেটাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এশিয়া ও ইউরোপের অর্থনীতিতে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, শর্ত না মানলে আমেরিকা ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেবে।
অন্যদিকে, ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলি আব্দোল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘ভারসাম্যহীন ও বোকামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের পাল্টা হুঁশিয়ারি, যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল তাদের কোনো স্থাপনায় আঘাত করে, তবে তারা পুরো অঞ্চলকে ‘নরকে’ পরিণত করবে। ইরান ইতিমধ্যেই কুয়েতের তেল কমপ্লেক্সে ড্রোন হামলা চালিয়ে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে যে, পাল্টাপাল্টি হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও জল ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে। ইরানও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের দেওয়া এই ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিশ্ববাসীকে এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী যুদ্ধের আশঙ্কায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।