আমডাঙায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই: নওশাদ ফ্যাক্টরে কি ধস নামবে তৃণমূলের দুর্গে?

আমডাঙায় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই: নওশাদ ফ্যাক্টরে কি ধস নামবে তৃণমূলের দুর্গে?

২০১১ থেকে টানা তিনবার আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে থাকলেও ২০২৬-এর নির্বাচনে সেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঘাসফুল শিবির। এবার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমানকে সরিয়ে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকীকে প্রার্থী করেছে দল। টিকিট না পেয়ে বিদায়ী বিধায়ক রফিকুরের প্রাথমিক ক্ষোভ এবং নিচুতলার কর্মীদের অসন্তোষ দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। যদিও বর্তমানে দুই নেতা একসঙ্গে প্রচার সারছেন, তবে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

এই লড়াইয়ের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক সংঘাত। তৃণমূল প্রার্থী কাসেম সিদ্দিকীর বিপক্ষে সিপিএম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থীর হয়ে কোমর বেঁধে নেমেছেন তাঁরই ভাই নওশাদ সিদ্দিকী। নওশাদের ঝোড়ো প্রচার এবং আইএসএফ-এর ক্রমবর্ধমান শক্তি আমডাঙায় সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণে বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফলে রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নীতি ও দলের লড়াই এখানে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

বিগত নির্বাচনে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি এবং আইএসএফ-এর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবার লড়াইকে চতুর্মুখী করে তুলেছে। বিজেপি প্রার্থী অরিন্দম দে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে হিন্দু ভোট সংহতির লক্ষ্য নিয়েছেন, অন্যদিকে বাম-আইএসএফ জোট সংখ্যালঘু ও বাম ভোটের সমন্বয়ে চমক দিতে মরিয়া। উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে কাসেম সিদ্দিকী আমডাঙার গড় রক্ষা করতে পারবেন, নাকি বিরোধীদের সাঁড়াশি চাপে পতন হবে দীর্ঘদিনের এই দুর্গের, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *