আর্টেমিস-২: ৫০ বছর পর চন্দ্রাভিযান শুরু হলেও কেন চাঁদে পা রাখছেন না নভোচারীরা?

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করেছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশন। ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপিত এই ঐতিহাসিক অভিযানে চারজন মহাকাশচারী অংশ নিলেও তারা কেউই চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবেন না। মূলত ১০ দিনের এই যাত্রায় তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং ভবিষ্যতে অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে ওরিয়ন মহাকাশযানের বিভিন্ন কারিগরি সক্ষমতা পরীক্ষা করবেন। চাঁদের বুকে মানুষের পা রাখার জন্য ২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
১৯৭২ সালের পর এটিই প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান হলেও বাজেট সংকট ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দীর্ঘ সময় বিরতি ছিল। অ্যাপোলো মিশনের সময় মার্কিন বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ০.৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে ল্যান্ডার এবং বিশেষ স্পেসস্যুট তৈরির কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকায় এবার সরাসরি অবতরণ সম্ভব হচ্ছে না। এবার নাসার সাথে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
আর্টেমিস-২ মিশনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো চাঁদের রহস্যময় ‘অন্ধকার অংশ’ বা দূরবর্তী গোলার্ধ পর্যবেক্ষণ। চার নভোচারী সশরীরে এই এলাকাটি পরিদর্শন ও ছবি রেকর্ড করবেন, যা ভবিষ্যতে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি ও মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম করবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি চাঁদে জল ও দুর্লভ খনিজ সম্পদের সন্ধানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতাও এই মিশনকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে। নাসা মনে করছে, এই পরীক্ষা-নিরীক্ষাই মানবজাতির পরবর্তী মহাকাশ বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করবে।